৫ আগস্ট যুবদল নেতার নেতৃত্বে থানায় হামলা-ভাঙচুর, প্রতিহতে পুলিশের গুলিতে নিহত: মামলায় মৃত্যুদণ্ড হানিফের!
অনলাইন নিউজ ডেক্স
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট থানা ও পুলিশ লাইনসে হামলা প্রতিহতে পুলিশের চালানো গুলিতে ৬ জন নিহতের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। অথচ একইদিন কুষ্টিয়া মডেল থানায় হামলা ও ভাঙচুরের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবি করেছিলেন জেলা যুবদলের তৎকালীন প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদ।
২৯শে অক্টোবর. বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
রায়ে হানিফকে একটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং দুটি অভিযোগে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যুবদলের সন্ত্রাসী নেতা আব্দুল মাজেদ
চার আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির অর্থ জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার চার আসামিই পলাতক।
২০২৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় চালকলের মালিক ও স্থানীয়দের নিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্য দেন আব্দুল মাজেদ।
সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কুষ্টিয়া থানা আমি মাজেদ নেতৃত্ব দিয়ে ভাঙিছি।’ ৮ই সেপ্টেম্বর তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ও এ-সংক্রান্ত খবর প্রথম আলো, ঢাকা টাইমস, জাগো নিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
বক্তব্যটি প্রকাশের পর ৯ই সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে মাজেদ নিজের কথার ব্যাখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, আবেগের বশে কথাটি বলে ফেলেছিলেন। থানা ভাঙচুর বা লুটপাটের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
মাজেদের বক্তব্য ও পরবর্তী অস্বীকৃতি ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানায় হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, সেই প্রশ্ন সামনে আনে।
যদিও ৫ই আগস্টে কুষ্টিয়ায় ওই দিন থানা ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাইনসেও হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত ছয়জন হলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
একই ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড হানিফের
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই সংঘাত প্রতিহতে উসকানি ও সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ৫ই আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার সংশ্লিষ্টতা ছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৭শে জুলাই কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হানিফের নেতৃত্বে একটি বৈঠক হয়। সেখানে আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে বিভিন্ন সভা ও বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও আনা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও কুষ্টিয়ায় ৬ জন নিহতের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে মাহবুব-উল-আলম হানিফকে।
