বিপিএল এর আয়ের ভাগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে
অনলাইন নিউজ ডেক্স
প্রত্যেক বছর বিস্তর খরচ হয়। আসর শেষে হিসাব মেলাতে বসে ব্যালান্স শিট কিছুতেই মেলে না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। তা নিয়ে অসহায়ত্বও ফুটে উঠল এই ফ্র্যাঞ্চাইজির চেয়ারপারসন নাফিসা কামালের কথায়, ‘খুব ভালো হয় যদি আমাদের ব্যালান্সটা সমান হয়ে যায় শেষ দিনে। লাভ কখনোই হয়নি।
লাভ করছেন না, লোকসান গুনে বিপিএলের দল চালিয়ে আসার পেছনে তাঁর পরিবারের ক্রীড়ামনস্কতার যোগ আছে বলে ধারণা করা হয়। তবে সেই ধারণাও ভুল বলেই জানালেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিসিবি সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ে, ‘নিজেদের পকেট থেকে তো পুরো বিপিএল চালাতে পারব না। এটি খুব মিথ্যা বলা হবে যদি বলি যে আমাদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে চালাচ্ছি। মাঝেমধ্যে আমাদের একটু বেশি যায়।
আবার অতটা বেশিও না। কারণ আমাদের দলটি অনেক বেশি সংগঠিত এবং পেশাদার।’
এই পেশাদার দলটিই বিপিএলের পরের আসরে থাকবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন নাফিসা, ‘আমি আগামী বছর বিপিএল করব কি না নিশ্চিত নই। এখন যেভাবে হচ্ছে, সেভাবে চলতে থাকলে আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
এখন পর্যন্ত বিপিএল রাজস্বের ভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দেওয়া হয় না। ২০২৫ সালের আসর থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু করার জোর দাবিও জানিয়েছেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটির প্রধান। নাফিসা ভাগ চাইছেন বিপিএল রাজস্বের তিনটি খাত থেকে, ‘আয়ের অংশ না দিলে আগামীবার যে থাকছি না, সেটি শতভাগ নিশ্চিত। টিকিট, গ্রাউন্ডস এবং মিডিয়া রাইটস থেকে আমরা লভ্যাংশ চাই।’ যদিও কত শতাংশ চান, সেটি নিয়ে কোনো জোরাজুরি নেই তাঁর, ‘এ ক্ষেত্রে আমরা খুবই উদার থাকব।
ওরা (আয়োজক) যা দিতে ভালো বোধ করে, সেটিই নিতে রাজি আছি। সবচেয়ে কম দিয়ে হলেও মডেলটা তৈরি করুক। প্রথম পদক্ষেপটি নিক।’ নাফিসার চাওয়ার সঙ্গে একমত রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইশতিয়াক সাদেকও, ‘এ ব্যাপারে বলতে বলতে আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। চাওয়া-পাওয়া আর কিছু নেই। আইএল টি-টোয়েন্টি বা পিএসএলে প্রতিটি দলকে পাঁচ-সাত কোটি টাকা করে দেওয়া হয় আয় থেকে। আমাদের অল্প দিক না, শুরুটা তো করুক। দিলে মনে হবে এটি আমাদের নিজস্ব একটি জিনিস।’
যদিও অচিরেই তাঁদের চাওয়া পূরণের কোনো ইঙ্গিত নেই। গত বছর বিসিবির পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, এই ফর্মুলায় যাওয়া সম্ভব নয়। গতকালও একই অবস্থান প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর, ‘দল মালিকরা আমাদের সঙ্গে বসলে আমরা যখন পুরো বিষয়টি বোঝাব, আমি নিশ্চিত তাঁরাও বুঝবেন যে এটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভব নয়।’ কেন নয়? সেই ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, ‘পিএসএলের উদাহরণ দেওয়া হয় এখন। ওখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি কত জানেন? স্পর্শকাতর তথ্য বলে দিতে পারছি না। এটুকুই শুধু বলি, বিস্তর ফারাক। এখন আয় শেয়ার করতে গেলে মডেল বদলাতে হবে। পিএসএলের ফর্মুলায় গেলে যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হবে, বাংলাদেশের বাস্তবতায় তা নিতে গেলে বিপিএলটা আর টেকসই হবে না।’
