বরগুনায় সরকারি কলেজে জনবলসংকটে পাঠদান ব্যাহত
অনলাইন নিউজ ডেক্স
আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষক, কর্মচারী, অফিস সহায়কসহ ৪৬ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। শিক্ষক সংকটে কলেজের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২২টি বিষয়ের মধ্যে ১১টি বিষয়ে শিক্ষক নেই। ওই সব বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষক ও কর্মচারী চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও প্রতিকার পাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও কলেজের কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।
১৯৬৯ সালে আমতলীর বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সাবেক এমপি মো. মফিজ উদ্দিন তালুকদার সরকারি কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখায় কলেজে একাদশ, দ্বাদশ ও স্নাতক শ্রেণিতে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৬ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হয়। এর পরপরই কলেজের বেশির ভাগ সিনিয়র শিক্ষক অবসরে চলে যান। এতে কলেজটিতে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দেয়।
২২টি বিষয়ের পাঠদান হলেও বর্তমানে শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
জাতীয়করণের পর থেকে ২২টি বিষয়ের মধ্যে ১১টি বিষয়ের শিক্ষক না থাকায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কলেজের আবশ্যিক বিষয় বাংলার শিক্ষক মোসা. রেহেনা মাহবুব ২০১৬ সালে অবসরে গেছেন। এর পর থেকে এ বিষয়ে কলেজে কোনো শিক্ষক নেই। ১৫ বছর ধরে ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিষয়ে কোনো শিক্ষক নেই।
সিনিয়র শিক্ষকরা অবসরে যাওয়ায় ২০১৯ সাল থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইতিহাস, অর্থনীতি, পৌরনীতি, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই। এ ছাড়া দর্শন ও পদার্থ বিষয়ে দুজন শিক্ষকের বিপরীতে আছেন একজন করে এবং উদ্ভিদবিজ্ঞানে তিনটি পদের বিপরীতে আছে দুজন শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে নেই লাইব্রেরিয়ান ও শারীরিক শিক্ষক। তিনজন করণিক পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। পাঁচজন প্রদর্শক শিক্ষকের বিপরীতে আছেন দুজন। সাতজন অফিস সহায়ক পদের স্থলে কর্মরত আছেন মাত্র পাঁচজন।
জাতীয়করণের পর থেকে পর্যায়ক্রমে আমতলী সরকারি কলেজের শিক্ষকরা অবসরে যাওয়ায় পাঁচ বছর ধরে শিক্ষকদের শূন্য পদে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নিয়োগ না দেওয়ায় ওই কলেজে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করছে এবং পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমতলী সরকারি কলেজে অধ্যয়নরত বাণিজ্য বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে দীর্ঘদিন ধরে ফিন্যান্স ও মার্কেটিং বিষয়ের কোনো শিক্ষক নেই।
ইতিহাস বিষয়ের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছি। তাঁরা দ্রুত কলেজটিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জানান।
কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী নুশাত, নাদিয়া, বিথি, পাপিয়াসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত ছয় বছর কলেজটিতে আবশ্যিক বিষয় বাংলার শিক্ষকসহ তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক অবসরে যাওয়ায় আমরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।’
আমতলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন কলেজটিতে শিক্ষক শূন্যতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘শিক্ষকরা অবসরে যাওয়ায় ওই বিষয়ের পদগুলো শূন্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শূন্য পদে শিক্ষক চেয়ে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো পাইনি। শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।’
