স্টিভ জবসের বিষণ্ণ ছেলেবেলা


স্টিভ জবসের বিষণ্ণ ছেলেবেলা
স্টিভের পথচলার শুরুটা মোটেও নিষ্কণ্টক ছিল না। বাবা সামান্য মোটর মেকানিক, বিত্তবৈভব ছিল না, তাছাড়া শৈববেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল তিনি দত্তক নেওয়া সন্তান। তাঁর আসল বাবা-মা তাঁকে ফেলে গেছেন। সুতরাং ছোটবেলা থেকেই একটা হীনমন্যতা নিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে স্টিভকে। যতই বড় হয়েছেন ততই সেই হীনমন্যতা বেড়েছে। লেখাপড়ায় মন বসাতে পারেননি। প্রযুক্তির নেশা তাঁকে পাগলের মতো হাতছানী দিয়েছে। হয়েছেন ড্রাগ আসক্ত। কখনো গাঁজা কখনো এলএসডির মতো ভয়ঙ্কর মাদকের সর্বনাশা ছোবলে সপে দিয়েছেন নিজেকে। পরে তাঁকে অমানবিক, নিষ্ঠুর, একরোখা অথচ ভয়নাক আইডিয়াবাজ করে তুলেছিল এই হীনমন্যতা। এত কিছুর পরেও তিনি যে বিশ্বসেরা উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন, সেটা পৃথিবীর অনেক বড় পাওয়া। মনে মনে যতই খেদ থাক, নিজের আসল বাবা-মায়ের প্রতি যত ঘৃণাই পুষে রাখুন মনে, পল আর ক্লারা জবসকেই স্টিভ তাঁর আসল বাবা-মা মনে করতেন, তাঁদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন। নিজের বাবা-মায়ের সম্পর্কে তাঁর অকপট ঊচ্চারণ ছিল, ‘ওরা শুধু আমার জন্য ডিম্বাণু আর শুক্রাণুর জোগানদাতা, এর বেশি কিছু নয়।’ স্টিভের কাছে পলই ছিলেন নায়ক। লোকটার কারিগরি দক্ষতা, গাড়ি আর যন্ত্রপাতি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞান স্টিভকে মুগ্ধ করত। ছেলের আগ্রহের অমর্যাদা করেননি পল জবস। ছোট্ট স্টিভের হাতে তাই হাতুড়ি তুলে দিয়েছিলেন। না, বাপের পরিশ্রমের ভাগীদার হতে নয়, নিজের মতো যেন জীবনটাকে চালাতে পারে সেই সুযোগ স্টিভকে করে দিয়েছিলেন পল। গাড়ির প্রতি, গাড়ির যন্ত্রপাতির প্রতি স্টিভের অন্যরকম আকর্ষণ তৈরি হয়। সেই আকর্ষণটাই কৈশোরে ইলেকট্রনিকসের প্রতি স্টিভকে দুর্বল করে তোলে।এই দুর্বলতাই স্টিভ জবসকে পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি জগতের প্রবাদ পুরুষে পরিণত করে!