শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শিক্ষককের মানহানির অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মার্চ ৯, ২০২৪ | ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের আন্ধার-মানিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শুভ্রা রায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভের মাধ্যমে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মানহানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ৭ মার্চ (বৃহস্পতিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার বয়ড়া ভাটি-কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান চাতক। অভিযোগ-পত্রের সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মার্চ (মঙ্গলবার) ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের উপর আন্ধার-মানিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে ওই ভারপ্রধান শিক্ষক তার বিদ্যালয় হতে একজন শিক্ষার্থী নিয়ে আন্ধার-মানিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে যায়। ওই বিদ্যালয়ের গেটে প্রবেশ করতেই সহকারী শিক্ষিকা শুভ্রা রায় তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দিকে ক্যামেরা তাক করে অপমানজনক বিভিন্ন কথাবার্তা বলতে থাকে। লাইভে সে কুখ্যাত মনিরুজ্জামান চাতক বলে প্রচার করতে থাকে এবং তাকে বিদ্যালয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে আখ্যায়িত করে। ওই শিক্ষিকা আরো বলতে থাকে, সে নিয়মিত তাকে ইভ-টিজিং করে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরণের মানহানিকর কথা বলতে থাকে। প্রচন্ড লজ্জায় ওই প্রধান শিক্ষক তার শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের ভেতরে চলে যেতে বলে এবং ওই শিক্ষিকার এমন আচরণে সে নিজেকে লুকাতে চেষ্টা করে। তারপরেও তিনি লাইভ বন্ধ না করে বরং একে একে তিনবার ফেসবুক লাইভে এসে মানহানিকর বিভিন্ন কথা বলতেই থাকে। প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান চাতক নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করলে তখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন,\"পালাস কেন\"? এ ঘটনায় কোমল-মতি শিক্ষার্থী এবং প্রায় ত্রিশ-জন শিক্ষকের সামনে তিনি চরমভাবে অপমানিত হন বলে অভিযোগ-পত্রে উল্লেখ করা হয়। একটি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে ওই শিক্ষিকা শুভ্রা রায়ের নিয়মবহির্ভূত ফেসবুক লাইভে এসে অপমান অপদস্থ করার সঠিক বিচার আপনার কাছে প্রার্থনা করেন ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। জানা যায়, শুভ্রা রায় আন্ধার-মানিক মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান টিপুর সহধর্মিণী। এর আগেও একাধিকবার এই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে মানহানি করার বিষয়ে মুঠোফোনে শুভ্রা রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, \"আপনি অভিযোগ পেয়েছেন আপনার যা খুশি তাই করেন। এ ব্যাপারে আমি আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাই না।\" বলেই তিনি এ প্রতিবেদকের মুঠোফোনের লাইনটি কেটে দেন। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার রহমান ইনকিলাবকে জানান, আমার হাতে এখনও অভিযোগের কপি এসে পৌঁছায়নি। মূলত ডাক ফাইলগুলো আসে সকালে। বৃহস্পতিবার আমি অফিসে থাকাকালীন সময়ে পাইনি। যদি অফিসিয়াল রিসিভ কপি থাকে তাহলে হয়তো রবিবারে আমি পাব। এ রকম কোনো অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে এর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।