শিল্পে গ্যাস সংযোগ

প্রকাশিতঃ মে ২০, ২০২৬ | ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

পাঁচ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কেন গ্যাস সংযোগ দেওয়া যায়নি, তা এক বড় প্রশ্ন। গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে ১ হাজার ৮০০টি আবেদনপত্র জমা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছে ৫৫০টি প্রতিষ্ঠান। অপেক্ষার দিন গুনতে গুনতে ৫ বছর কেটে গেছে; কিন্তু গ্যাসের দেখা নেই। ডিমান্ড নোটের এই টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি। ভাবা যায়! বলার অপেক্ষা রাখে না, গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনে যেতে পারছে না। ফলে শিল্পায়নের একটি বড় ক্ষেত্র থমকে আছে, উপরন্তু হচ্ছে না নতুন কর্মসংস্থান। বাড়ছে বেকারত্ব। এ বেকারত্বের কারণে সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। শুধু কি তাই? নতুন বিনিয়োগেও নেমেছে স্তব্ধতা। শিল্পে গ্যাসের সংযোগ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ যা বলেছেন, তা মোটেও সুখবর নয়। বলেছেন, গ্যাস সংযোগের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আরও কয়েকটি মিটিং নাকি করতে হবে! তিনি যোগ করেছেন, সংযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে যারা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিয়েছেন, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা আনতে নাকি আরও সময় লাগবে! প্রথম কথা, ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে, এ কথা বলার প্রয়োজন ছিল না। তারা তো যৌক্তিকভাবেই অগ্রাধিকার পাবেন। কথা হচ্ছে, গ্যাস সংযোগের জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আর কত অপেক্ষা করতে হবে? বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার তিন মাস পর গ্যাস সংযোগ নিয়ে জ্বালানি বিভাগে বৈঠক হলো। কেন এত দেরি? এভাবে বিলম্ব ঘটলে তো সিদ্ধান্ত আসতে যুগ পেরিয়ে যাবে। এটা স্পষ্ট, গ্যাস সংযোগ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তা না হলে হবিগঞ্জ এলাকায় গ্যাসের চাপ থাকা সত্ত্বেও ওই এলাকায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না কেন? আমাদের প্রশ্ন, দেশের যেসব ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে, সেসব জায়গায় সবকিছু গুছিয়ে আনতে কত সময় লাগবে? তিন মাস কিন্তু অনেক সময়। অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। কারখানা চালু করতে না পারলে সুদের টাকা কে দেবে? সবকিছু বিবেচনায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, তথা সরকার শিল্পে গ্যাস সংযোগের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে চাই। তা না হলে সংকট কিন্তু ঘনীভূত হতে পারে।