দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভাঙা চেয়ার, নষ্ট এসিসহ নিজস্ব সাউন্ড সিস্টেম না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। গত সোমবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে সরেজমিনে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
গত বছরের জুনে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন আধুনিকায়ন ও টয়লেট নির্মাণের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুকূলে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
তবে টাকা বরাদ্দের সাত মাস পেরোলেও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজটি এখনো শুরু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অদক্ষ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছে শিক্ষার্থীরা।
দেখা গেছে, মিলনায়তনে তিন শ আসনের মধ্যে ৫৫টি আসনই ভাঙা। এর কোনোটির হাতল ভাঙা, কোনোটির হেলান দেয়ার অংশটি ভাঙা।
আবার কোনোটির গদি ছেঁড়া। সামনের সোফাগুলোর অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও পেছনের দিকের চেয়ারগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। তাছাড়া মিলনায়তনের একটি এসিও ঠিক মতো চলে না।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সরওয়ার জাহান বলেন, কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বসার মতো অবস্থা এখন আর নেই।
চেয়ারগুলো ভেঙে গেছে। অথচ এ সংস্কারের জন্য গত বছরেই টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতার কারণে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার জন্য এ কাজ হচ্ছে না।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে অডিটোরিয়াম আসন সমস্যা অন্যতম।
ভাঙা আসনের জন্য শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। দিনের পর দিন পার হলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, মিলনায়তের সাউন্ড সিস্টেমে সমস্যা রয়েছে। নিজেদের সাউন্ড সিস্টেম নাই। প্রতিবারই বাইরে থেকে ভাড়া করে এনে অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে হয়। দেয়ালের রং উঠে গেছে। সবগুলো এসি নষ্ট। স্টেজের পেছনে গিয়ে কস্টিউম পাল্টানোর মত কোনো জায়গা নেই। বসার আসনেও সমস্যা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ জুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম আধুনিকায়ন ও শিক্ষার্থীদের টয়লেট নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য এককালীন দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ‘সিটি কর্পোরেশনের জন্য উন্নয়ন সহায়তা’ খাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অনুকূলে শর্তসাপেক্ষে অবমুক্তিতে এ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, খুব শিগগির সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে। সিটি করপোরেশন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মিলনায়তনটি দেখে গেছেন। আমি নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বিষয়ে সিটি করপোরেশন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। একটা ডিজাইন করতে বলেছি। আগামী মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।