মিজানুর রহমান

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

টানা দু’দিন কমার পর ফের বাড়ল তেলের দাম

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

ইরান যুদ্ধকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে টানা দুই দিনের পতনের পর আবারও বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮১ সেন্ট বা ০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৮৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.২৩ ডলারে লেনদেন হয়। ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা থাকায় তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি তিনি কোনোভাবেই বিবেচনা করবেন না। ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রশাসনের চলমান আলোচনার মধ্যেই হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা এলো। ট্রাম্প জানিয়েছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি তড়িঘড়ি করতে রাজি নন এবং প্রয়োজনে তিনি আরও কয়েক দিন বা তার চেয়েও বেশি সময় অপেক্ষা করতে প্রস্তুত আছেন।

ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘বর্ডারলাইনে’ আছে: ট্রাম্প

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখন এমন এক ‘বর্ডারলাইনে’ বা অনিশ্চিত অবস্থায় আছে, যেখানে হয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা হবে, নয়তো আবারও ইরানের ওপর হামলা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা স্থগিত করে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন। কখনো তিনি চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন, আবার কখনো কঠোর পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, বিশ্বাস করুন, পরিস্থিতি এখন একেবারে ‘বর্ডারলাইনে’ আছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি সন্তোষজনক জবাব না পাই, তাহলে খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের এমন জবাব চাই, যা শতভাগ সন্তোষজনক হবে।’ ট্রাম্পের ভাষ্য, ইরান যদি সমঝোতায় আসে, তাহলে ‘অনেক সময়, শক্তি ও প্রাণহানি’ বাঁচানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এই চুক্তি ‘খুব দ্রুত, এমনকি কয়েক দিনের মধ্যেও’ হতে পারে। এর আগে চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আবার হামলা চালানোর নির্দেশ দেওয়ার মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলেন। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে মঙ্গলবারের (১৯ মে) পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করা হয়। তথ্যসূত্র: দ্য ডন

এবার মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও হামলার হুমকি দিল ইরান

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আবার সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত থেকে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে’— এমন মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে বুধবার এমন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে, তবে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যে এমন শর্ত পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যেগুলো ট্রাম্প আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে— হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। ট্রাম্প সোমবার জানান, তিনি নতুন বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু কূটনীতির জন্য আরও সময় দিতে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আজ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’ ইরান বারবার হুমকি দিয়েছে যে নতুন কোনো হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থাকা দেশগুলোতে পালটা আঘাত হানবে। বুধবার তারা ইঙ্গিত দেয় যে, এবার অঞ্চলটির বাইরেও লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ এবার অঞ্চল ছাড়িয়ে বিস্তৃত হবে। এদিকে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি চাপের মুখে রয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্যে কখনও নতুন করে বোমা হামলার হুমকি, আবার কখনও শান্তিচুক্তি আসন্ন—এমন দাবি শোনা গেছে। মঙ্গলবার তিনি বলেন, যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে। গত মাসে অনুষ্ঠিত একমাত্র শান্তি আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও অগ্রগতির কথা বলেন। হোয়াইট হাউস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের এই ওঠানামা তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। যদিও মে মাসের শুরু থেকে সপ্তাহভিত্তিক দাম বাড়ছেই। এক মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম বুধবার সকালে প্রায় ১.৫% কমে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের সামান্য নিচে নেমেছে, তবে এখনো তা গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক বেশি।

ঘুচবে কি দুঃখ তিস্তাপারে

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ

দিন যায়, মাস যায়, চলে গেছে বছরের পর বছর। তবুও তিস্তার দুই পারের মানুষের দুঃখ ঘোচেনি। মেলেনি তিস্তা নদীর পানির নায্য হিস্যা। ভারত পানি আটকে রাখায় শুষ্ক মৌসুমে স্রোতঃস্বিনী তিস্তার রূপ হয়ে যায় মরুভূমির মতো। আর বর্ষায় ভারত থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার কারণে বন্যা ও নদী ভাঙনের বিপর্যস্ত হন দুই কূলের মানুষ। দফায় দফায় প্রতিশ্রুতির পরেও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি করেনি ভারত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্যোগ ও সমীক্ষার কাজ করা হলেও বাস্তবে কোনো ফলাফল আসেনি। বিএনপি সরকারের পথচলার শুরুতেই তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন এবং সেখানে পানি সংরক্ষণের অপশন যুক্ত করে নতুনভাবে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গতকাল ঘোষণা দিয়েছেন পদ্মা ব্যারাজের মতো তিস্তা ব্যারাজও হবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আছে বিস্তর চ্যালেঞ্জ। ভারত থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী দেশটি পানি না দিলে কীভাবে তা ব্যবস্থাপনা করা হবে, প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রকল্প ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক শক্তির টানাপোড়েন, তিস্তাপারের পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য রক্ষা, নদীকে ঘিরে কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা তার মধ্যে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে জয়ী হলে আগামী ৫ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করার বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল। এতে উল্লেখ করা হয়, তিস্তা ও পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে পানি নিরাপত্তা, বন্যা ও মরুকরণ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগে ৭৫ লাখ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা পাবে এবং ৫ কোটিরও বেশি মানুষ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবেন। গত মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়েফরোয়াড’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে জুলাই থেকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে জানিয়েছিলেন পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি সেই আয়োজনে বলেন, খাল খনন ছাড়াও পদ্মা ও তিস্তাকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে বর্ষায় অতিরিক্ত বন্যা হয়। যদি আমরা পদ্মা ব্যারাজ না করতে পারি, এক সময় দেখা যাবে, সেই অঞ্চল মরুভূমি হয়ে যাবে। পদ্মা ও তিস্তাকে নিয়ে দৃশ্যমান পরিকল্পনা যত দ্রুত বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, সে নিয়ে আমরা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন দিয়েছি। জুনে বাজেট পাশ হবে এবং জুলাইয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারাজের কাজ শুরু হবে বলে সেদিন তিনি জানিয়েছেন। বলেছেন, এই দুটো প্রজেক্টকেই বলা হয়, মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট; দুটোর সঙ্গে আমাদের দেশের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। একই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সচিবালয়ে আরেক আয়োজনে জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনায় কিছু সংশোধন আনা হবে এবং সেখানে পানি সংরক্ষণের অপশন যুক্ত করে নতুনভাবে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, আমি জয়েন্ট রিভার কমিশনের (জেআরসি) একজন উপদেষ্টা হিসাবে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে আলোচনা হয়েছে, সেখানে মূল প্রশ্ন ছিল শুধু ভাঙন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নয়; শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে। বর্তমানে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নদীকে প্রায় ৮০০ মিটার প্রশস্ততায় সীমিত করা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি এবং তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদীভাঙন প্রতিরোধবিষয়ক। তিস্তা অববাহিকায় ভাঙন একটি বড় সমস্যা, বন্যাও বড় সমস্যা। এর মধ্যেই সম্প্রতি একনেকে অনুমোদন পেয়েছে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে ঘিরে গত এক দশকে দেশের রাজনীতিতে এসেছে অসংখ্য প্রতিশ্রুতি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে চীনের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের আলোচনা শুরু হয়। চীনের প্রতিষ্ঠান পাওয়ার চায়না কনস্ট্রাকশন ২০১৬ সালের পর টানা তিন বছর সমীক্ষা চালায়। শুরু থেকেই চীন অর্থায়নের আগ্রহ দেখালেও ভারতের আপত্তির কারণে সে উদ্যোগ আর এগোয়নি। পরে সরকারিভাবে বলা হয়, তিস্তা প্রকল্পে ভারত কাজ করবে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে নিয়ে তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করেন। পরে বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতে চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বেইজিং প্রস্তুত রয়েছে। চলতি বছরের ১১ মে লালমনিরহাটে এক অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সরকার চীনের সহায়তায় দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করতে চায়। প্রথমবারের মতো চীন সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের আলোচনায় তিস্তা ইস্যুটি ছিল। মনে করা হয়, তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের বড় কারণ ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ প্রকল্প। যার মাধ্যমে চীন এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশকে একীভূত করা হবে। চীনের বিআরআই প্রকল্পের আওতাধীন বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর। এসব কারণেই তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের আগ্রহকে শুরু থেকই ভালোভাবে নিচ্ছে না ভারত। অন্যদিকে এই অঞ্চলে চীনের আধিপত্য যেন না বাড়ে তা নিয়ে সচেষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাই তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহ নজরে আছে তাদেরও। নদী বিশেষজ্ঞ ও গবেষক অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ প্রশ্ন তোলেন, তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ভারত বা চীনের কাছে যেতে হবে কেন? তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি নিয়ে তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আছে। তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন হতে হবে আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে। আর তিস্তার প্রকল্প মানুষের জীবন-মরণের প্রকল্প। এ বিষয়ে কোনো কালক্ষেপণ নয়। সরকারকে রোডম্যাপ দিতে হবে কীভাবে কীভাবে কাজটা হবে। বিশ্বে যাদের কারিগরি দক্ষতা ভালো তাদের দিয়েই এটি বাস্তবায়ন করতে হবে। পুরো পরিকল্পনাটি হতে হবে বৈজ্ঞানিকভাবে; যাতে কৃষি, কৃষক, নদী সবাই বেঁচে যায়। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ ঠিক থাকে। তিনি বলেন, তিস্তার দুই পারে লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে ভাঙনে উদ্বাস্তু হয়েছেন। এর কারণ তিস্তায় পানি থাকে না। পানি যখন থাকে না তখন তিস্তায় প্রচুর চাষাবাদ করা হয়। তখন শুধু শস্য তুলে নেওয়া হয়। আর গাছগাছালি যা থাকে সব নদীতে পড়ে থাকে। এই অবস্থায় যখন নদীতে পানি আসে তখন আরেক দফায় পলি আটকা পড়ে। পলি আটকা পড়লে তলদেশ ভরাট হয়। তখন দুই পাড় আবার ভাঙে। এভাবে দুই পাড় ভেঙেছে প্রচুর। লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়েছেন। ফলে তিস্তায় পানি লাগবে। ভারতের পানি আটকে রাখা একটি বর্বরতম কাজ। বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও ভারত তিস্তা পানি চুক্তি করেনি। তিনি বলেন, তিস্তা যেহেতু আন্তঃদেশীয় নদী, তাই উভয় দেশীয় এবং নিজস্ব ব্যবস্থাপনা দুটোই লাগবে। উভয় দেশীয় ব্যবস্থাপনায় না হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কীভাবে তিস্তাকে বাঁচানো যায় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। তিস্তার নায্য পানি চাওয়ার দাবি বজায় রাখতে হবে। ১৯৯৭ সালের আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ কনভেনশন আইনে পরিণত হয়েছে ২০১৪ সালে। এতদিন ভারত কি বলবে এজন্য সেটি চাওয়া হয়নি। কিন্তু সেই নতজানু হয়ে থাকার বাস্তবতা এখন আর নেই। তিস্তার পানি চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন আলোচনার পর চুক্তির একটি খসড়া চূড়ান্ত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানির ৩৭ দশমিক ৫ ভাগ বাংলাদেশের এবং ৪২ দশমিক ৫ ভাগ ভারতের পাওয়ার কথা ছিল। বাকি ২০ ভাগ থাকবে নদীর পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে। ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তার পানি নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরোধিতার কারণে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষরিত হয়নি। নরেন্দ্র মোদির সরকার তিস্তার পানি চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর হয়নি।

মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। এর ফলে খুলনার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কোটচাঁদপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটচাঁদপুর স্টেশন মাস্টার নয়ন আলী। তিনি বেলেন, রাত ৩টার দিকে একটি মালবাহী ট্রেন খুলনা থেকে ছেড়ে আসে। ট্রেনটি পার হওয়ার সময় লাইন বসে গেছে। খুলনা থেকে উদ্ধারকৃত ট্রেন এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে উদ্ধার কার্যক্রম চলছে।

৩১ মে’র ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে আজ

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ ব্যবস্থায় অগ্রিম টিকিট বিক্রি চলছে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিক্রি করা হচ্ছে আগামী ৩১ মে’র বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের আসন টিকিট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৮টায় রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আর দুপুর ২টায় পূর্বাঞ্চলে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর আসনের টিকিট বিক্রি শুরু হবে। আন্তঃনগর ট্রেনের ১ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি হবে ২২ মে, ২ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি হবে ২৩ মে, ৩ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি হবে ২৪ মে এবং ৪ জুনের আসনের টিকিট বিক্রি হবে ২৫ মে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শতভাগ আসনের টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। এ সময়ে কেনা টিকিট যাত্রীরা রেলওয়েকে ফেরত দিতে পারবেন না। প্রতিজন টিকিটপ্রত্যাশী একবারে সর্বোচ্চ চারটি আসনের টিকিট কিনতে পারবেন। একটির বেশি আসনের টিকিট কিনলে সহযাত্রীদের নাম টিকিট কেনার সময় উল্লেখ করতে হবে।

রাজস্ব আয় না বাড়লে স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে

প্রকাশিতঃ মে ২১, ২০২৬ | ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ সামষ্টিক অর্থনীতি একটি নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে-চড়া মূল্যস্ফীতির চাপ, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা, সুশাসনের অভাব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির অনিশ্চয়তা। এসব কারণে অর্থনৈতিক খাতে চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এর মধ্যে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কজনিত ধাক্কার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বৈদেশিক খাত থেকেও চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। এসব কারণে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে মন্থরগতি, কঠোর মুদ্রানীতি ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অর্থ ব্যয়ের ফলে মূল্যস্ফীতির হার আগামীতে কিছুটা কমতে পারে। বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির সার্বিক চিত্র ও নিকটবর্তী এবং মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি কেমন হতে পারে তার একটি পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ কয়েক বছর ধরেই নিম্নমুখী প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে। এর মধ্যে সম্প্রতি দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রেই অর্থনীতিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা এই চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একটি নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য উত্তেজনা, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত সম্ভাব্য শুল্কজনিত আঘাত অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এসব কারণে অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে বৈদেশিক খাত থেকেও আগামীতে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান ও নিকটবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধারা এখনো রয়ে গেছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতা এখনো বিদ্যমান। বিভিন্ন খাতে সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতিতে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এর পাশাপাশি আরও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেগুলো মোকাবিলা করে সামনে এগোতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতের ধীরগতির বিনিয়োগ ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খলায় বাধার সৃষ্টি হয়েছে। নানা অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে। ফলে বিদায়ি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশ কম। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। আগামীতে আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় আমদানির সঙ্গে দেশে মূল্যস্ফীতিও আমদানি হচ্ছে। ফলে আগামীতে মূল্যস্ফীতির হারে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা মূলত নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কজনিত কারণে হতে পারে। শুল্কের কারণে রপ্তানি আয় কমলে ডলারের জোগানও কমে যেতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়ে মূল্যস্ফীতিতে ধাক্কা লাগতে পারে। অন্যদিকে দেশে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন বেড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে পারে। তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কমলে, বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল হলে এবং মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বাড়ানো সম্ভব হলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও হ্রাস পেতে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। এতে বলা হয়, ঋণের উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি ও তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি ছিল মন্থর। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি মন্থর, মার্কিন শুল্কের আঘাত, বৈশ্বিক বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ভূরাজনৈতিক প্রকট অনিশ্চয়তাসহ বৈশ্বিক প্রতিকূলতা বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করে দিতে পারে। তবে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করতে পারে। ফলে কর্মসংস্থানের হারও বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বাভাসে কিছুটা সুখবর দিয়ে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১০ শতাংশ, রেমিট্যান্স প্রবাহ ৮ শতাংশ, আমদানি ব্যয় ৮ শতাংশ বাড়তে পারে। ফলে অর্থবছর শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এত আরও বলা হয়েছে, এই পূর্বাভাস বিশ্বব্যাপী চাহিদার পরিস্থিতি, পণ্যের দামের ওঠানামা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির ও পদক্ষেপগুলোর কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়, মধ্যমেয়াদে টেকসই প্রবাসী আয়, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার নমনীয় বিনিময় হারের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে পারলে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চাপ কমতে পারে। তবে বৈশ্বিক উত্তেজনা বৃদ্ধি, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং শুল্কজনিত আঘাতের কারণে বৈদেশিক খাতে চাপ তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব আয় কমায় সরকার ব্যাংক থেকে মাত্রাতিরিক্ত ঋণ নিচ্ছে। সরকারের অতিরিক্ত ঋণ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারের রাজস্ব আহরণ দুর্বল হওয়ায় ঋণের চাপ থেকে মূল্যস্ফীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে মধ্যমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, দারিদ্র্য বিমোচন ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। রাজস্ব আয় বাড়লে ঋণ কম দেবে, ব্যাংকের তারল্য বাড়বে। ঋণের সুদের হার কমে। তখন বেসরকারি খাত বাড়তি ঋণ নেবে। পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়লে সরকার অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে। তখন বেসরকারি খাতও বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার বৈশ্বিক নীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৫ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য আশাবাদী। এ লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারি খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।